কথা বলার সময় মানুষকে সুন্দরভাবে না বলার আদব

কথা বলার সময় মানুষকে সুন্দরভাবে না বলার আদব
কথা বলার সময় মানুষকে সুন্দরভাবে না বলার আদব

কথা বলার সময় মানুষকে সুন্দরভাবে না বলার আদব, পৃথিবীতে বেশিরভাগ ভুল বোঝাবুঝি, মন কষাকষি হয় সম্ভবত 'না' বাচক শব্দটার জন্যে। কারণ আমরা অনেকেই 'না' শব্দ ব্যবহারের সঠিক নিয়মটা জানি না। এই শব্দটা এমনিতেই সবার খুব অপছন্দের। তাই কোনো নিয়ম-কানুন ছাড়া হুটহাট এই শব্দের ব্যবহার ঘটে গেলে তা ঠিক শান দেয়া অস্ত্রের মতোই অপরপক্ষের অন্তরে আঘাত করে। সেজন্যে 'না' শব্দটা অসুন্দর হলেও তার প্রয়োগ হতে হবে সুন্দর এবং মোলায়েম।

নিচে মানুষকে সুন্দরভাবে 'না' বলার কিছু ট্রিকস দেওয়া হলো:


  • সময় নিয়ে উত্তর দেয়া: কোনো কথার জবাবই হুটহাট দেয়া ঠিক না। আর 'না' করার বিষয়টাতে আরও ভেবেচিন্তে জবাব দেয়া উচিত। অনেক সময় ভাবনা-চিন্তার সময় থাকে তবে কখনো নাও থাকতে পারে। এক্ষেত্রে সময় চেয়ে নেয়া যেতে পারে।

  • সম্বোধন করে বলা: কথা শুরুর আগে সম্বোধন করা। সমবয়সী বা ছোট হলে সরাসরি সম্বোধন করা। যেমন: আঁখি দেখো, আপু শোনো, নাবিলা শোন..
    আর বয়সে বড়দের ক্ষেত্রে সম্পর্কের নামে সম্বোধন করা। যেমন: আম্মু দেখো, চাচ্চু,  আমার…..সমস্যা আছে ইত্যাদি। 
    বড় আপুদের ক্ষেত্রে, আপু একটু কথা ছিলো, আপু ব্যাপারটা আসলে এরকম ছিলো...
    এতে কথার মাঝে আন্তরিকতা ফুটে ওঠে।

  • না শব্দের ব্যবহার এড়িয়ে চলা: আমি পারব না,  সময় নেই, যাব না, খাবো না এরকম স্ট্রিক্ট উত্তর না দিয়ে এভাবে বলা- কাজটা করতে /জিনিসটা দিতে/ ওখানে যেতে একটু অসুবিধা আছে, খেতে ইচ্ছে করছে না আসলে ইত্যাদি।

  • ব্যস্ত শব্দের ব্যবহার না করাই ভালো: কাছের জনেরা ব্যস্ত শব্দটা পজিটিভলি নেয় না। 'ব্যস্ত আছি' এই বাক্যটা শুনতেও সুখপ্রদ না। তাই এই ব্যস্ত শব্দের বিকল্প শব্দ ব্যবহারই শ্রেয়।

    যেমন: আমি তো এখন আসলে ফ্রি নেই, কাজের চাপ আজকে একটু বেশি ইত্যাদি।

  • অপারগতার কারণটা জানিয়ে দেয়া: অনেকেই আছি যারা নিজের বিষয়ে কাউকে কৈফিয়ত দিতে চাই না। কিন্তু অনেকসময় দিতে হয়, নতুবা ওই বিষয়ে ভুল বোঝবুঝির সৃষ্টি হয়। তাই কোনো বিষয়ে অপারগ হলে তার কারণটা জানিয়ে দেয়া ভালো। এতে অপর পক্ষের সিচুয়েশন বোঝার একটা সুযোগ থাকে। যেমন:

    কেউ হঠাৎ দেখা করতে বলল আর আপনি ফ্রি নেই। তাকে ফ্রি না থাকার কারণটা এভাবে বলা যায়- 'সেসময় টিউশন থাকে আর স্টুডেন্টের এক্সাম গ্যাপ দেয়া যাবে না/ আম্মু অসুস্থ বাসায় থাকতে হচ্ছে / আমার সময় ম্যানেজ করতে একটু অসুবিধা হচ্ছিলো পরীক্ষার জন্য...  ইত্যাদি।' যেটা কারণ সেটাই আন্তরিকতার সাথে বলা।

    কেউ টাকা ধার চাইল আর আপনার কাছে নেই। তাকে এভাবে বলা -'আসলে আমার কাছে এখন কোনো সেভিংস নেই। অন্তত কিছু টাকা দিতে পারব এমন অবস্থাও নেই।'

    কেউ কোথাও যেতে রিকোয়েস্ট করছে অথচ আপনার যেতে ইচ্ছে না। তাকে এভাবে বলা যায়- আসলে গ্যাদারিং ভালো লাগে না/ আমার শরীর ভালো লাগছে না ইত্যাদি।

  • বিনয়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার: কোনো কিছু নাকচ করে দেয়ার সময় কথা ও দেহের অঙ্গভঙ্গির মাঝে নমনীয়তা থাকা একান্ত প্রয়োজন। মুখে গোমড়া না রেখে আন্তরিকতার সাথে বলা। যেমন:

    দেখা করতে চাওয়া বান্ধবীকে এভাবে বলা - 'তোর সাথে আমারও খুব দেখা করতে ইচ্ছে হচ্ছে কিন্তু দেখা করার মতো সুযোগই পাচ্ছি না। অন্য একদিন ইন শা আল্লাহ দেখা করব।'

    টাকা ধার চাওয়া মানুষটাক এভাবে বলা- 'তোমার প্রয়োজন পূরণ করতে পারলে ভালো লাগত, কিন্তু আমারও আর্থিক সমস্যার কারণে সেটা হলো না। মনে কষ্ট নিও না।'

    কোথাও যেতে রিকোয়েস্ট করা মানুষটাকে এভাবে বলা- 'তোমরা গিয়ে ঘুরে আসো। আসলে ফ্রি মিক্সিং/গ্যাদারিং এ আনইজি ফিল হয়। এ ব্যাপারে রিকোয়েস্ট কোরো না প্লিজ।'

  • এড়িয়ে চলা মোটেও উচিত না: অনেকে ভাবি 'না' করে দিলে আপু কষ্ট পাবে বা কি না কি মনে করবে। তাই আমরা 'না' বলার ভয়ে কল রিসিভ করি না করে, মেসেজ সিন না করে, রিপ্লাই না দিয়ে অথবা যেকোনোভাবে এড়িয়ে চলারই চেষ্টা করি। কিন্তু এটা একেবারেই অনুচিত কাজ। এড়িয়ে চললে অপর মানুষটি দ্বিগুণ আঘাত পায়, অপমানিতবোধ করে। সম্পর্কেও সৃষ্টি হয় দীর্ঘমেয়াদি ফাটল।

  • অপেক্ষায় রাখা ঠিক না: অপেক্ষায় রাখার বিষয়টা ঠিক এমন যে, কোনো একটি কাজ আপনি করতে পারবেন না বা চাইছেন না। আবার লজ্জায় সেটা জানাতেও পারছেন না। তো আপনি মানুষটাকে কয়েকদিন পর কাজটা করব এইভাবে আশা দিয়ে রাখলেন। অথবা করবেন বলে গায়েব হয়ে গেলেন কিন্তু পরে ঠিক ঠিকই আর করলেন না! সোজা কথায় এটা প্রতারণা। এমন কাজ করলে মানুষতো কষ্ট পাবেই সেই সাথে আপনার উপরও চিরকালের জন্য বিশ্বাস হারাবে।

আমরা এভাবে সুন্দর ও আন্তরিকতার সাথে না করতে পারি আপুরা। সম্পর্ককে সুন্দর রাখতে এর বিকল্প নেই৷ আবার কাউকে কষ্ট দেওয়ার মাঝে তো কোন ক্রেডিট নেই৷ তাই মেসেজে কঠোরতা পরিহার করার চেষ্টা করি এরকম আন্তরিকতার প্রকাশের মাধ্যমে। আপনার একটু একমিনিট বেশি ব্যয় করে লেখা মেসেজটাই আপনাদের সম্পর্ককে সুন্দর করবে ইং শা আল্লহ।
আমাদের রসূল স এর আচরণ সবার কাছেই খুবই প্রিয় ছিলো....। একজন মুসলিমের বৈশিষ্ট্যই তো এমন হওয়া উচিত....।
_________________
(পরিমার্জিত)

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন